বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

এই বিষয় নিয়ে অনেকের বিভিন্ন ধারনা আছে । সঠিক আলোচনা করতে গেলে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে ।

বিঃদ্রঃ এখানে মাযহাব দিয়ে দেখব না শুধুমাত্র হাদিস দিয়ে দেখব ।


অনেকে হাত বাধার আরেকটা নিয়ম নিয়ে ঝামেলাতে পড়ে যে, কোথায় হাত বাঁধব সেটা পড়ে কিন্তু হাত বাঁধব কিভাবে ?

>

এই নিয়ে কয়েকটা হাদিস উল্লেখ করিঃ

১ম ক্ষেত্রঃ---

তাউস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করতেন ।(সংক্ষেপিত)

- সুনান আবু দাউদ 759

ওয়ায়িল বিন হুজর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছিলাম, তিনি স্বীয় ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখতেন ।(সংক্ষেপিত)

- বুলুগুল মারাম 278

‘আবদুর রহমান সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনুয যুবায়ির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, সালাতে দুই পা সমান রাখা এবং এক হাতের উপর অপর হাত রাখা সুন্নাত।

- সুনান আবু দাউদ 759

সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে।* আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, সাহল (রহ.) এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতেন বলেই জানি। ইসমাঈল (রহ.) বলেন, এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেই বর্ণনা করা হতো। তবে তিনি এমন বলেননি যে, সাহল (রহ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতেন।

- সহীহ বুখারী 740

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি আমার বাম হাত ডান হাতের উপর রেখেছিলাম। তিনি আমার ডান হাত ধরে বাম হাতের উপর রাখেন।

- সুনান ইবনু মাজাহ ৩/৮১১

ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে তাঁর বাম হাত ধরেন।

- সুনান ইবনু মাজাহ ২/৮১০

সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... ওয়ায়িল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন আমি তাঁকে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরে রাখতে দেখেছি।

- সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) 890

২য় ক্ষেত্রঃ---

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ও জোড়া আঁকড়ে ধরেন।(সংক্ষেপিত)

- সুনান আবু দাউদ 727

ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার সালাতের মধ্যে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা (সালাত সংশ্লিষ্ট কাজে) সাহায্য নিতে পারে। আবূ ইসহাক (রহ.) সালাত আদায়রত অবস্থায় তাঁর টুপী নামিয়ে রেখেছিলেন এবং তা তুলে মাথায় দিয়েছিলেন। ‘আলী (রাযি.) (সালাতে) সাধারণত তাঁর (ডান হাতের) পাঞ্জা বাম হাতের কব্জির উপরে রাখতেন, তবে কখনো শরীর চুলকাতে হলে বা কাপড় ঠিক করতে হলে করতেন।

- সহীহ বুখারী ১১৯৮

[আরও অনেক সাহিহ হাদিস আছে, তবে প্রধান হাদিস গুলো থেকে উল্লেখ করলাম ।]

*** আমি এখানে নিজে কিছু লিখব না, মুলত এখানে একটি হাদিস উল্লেখ করতে যেয়ে এমন তা লেখা হয়েছেঃ

ওয়ায়িল বিন হুজর (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন। এ সম্পর্কিত বুখারীর হাদীসের আরবী ইবারতে ذراعه শব্দের অর্থ করতে গিয়ে কোন কোন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অর্থ করেছেন হাতের কজি। কিন্তু এমন কোন অভিধান নেই যেখানে ذراع অর্থ কাজ করা হয়েছে। আরবী অভিধানগুলোতে ذراع শব্দের অর্থ পূর্ণ একগজ বিশিষ্ট হাত । -অনুবাদক ।

শুধুমাত্র সহীহ হাদীসকে ধামাচাপা দিয়ে মাযহাবী মতকে অগ্রাধিকার দেয়ার উদ্দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুবাদে পূর্ণ হাতের পরিবর্তে কব্জি উল্লেখ করেছেন। সংশয় নিরসনের লক্ষে এ সম্পর্কে খানিকটা বিশদ আলোচনা উদ্ধৃত করা হলো:

ওয়াইল বিন হুজর (রাযি.) হতে বৰ্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। (আমি দেখেছি) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন। (বুখারী ১০২ পৃষ্ঠা সহীহ ইবনু খুযায়মাহ ২০ পৃষ্ঠা। মুসলিম ১৭৩ পৃষ্ঠা। আবূ দাউদ ১ম খণ্ড ১১০, ১২১, ১২৮ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ৫৯ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪১ পৃষ্ঠা। ইবনু মাজাহ ৫৮, ৫৯ পৃষ্ঠা, মেশকাত ৭৫ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১৭৪ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৬০ পৃষ্ঠা। যাদুল মায়াদ ১২৯ পৃষ্ঠা। হিদায়া দিরায়াহ ১০১ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সা’আদাত ১ম। খণ্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা। বুখারী আযীযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪৩৫। বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড হাদীস নং ৬৯৬। বুখারী ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭০২; মুসলিম ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৮৫১। আবূ দাউদ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭৫৯, তিরমিযী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৫২, মেশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ২য় খণ্ড ও মাদরাসা পাঠ্য। ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৪১, ৭৪২। বুলুগুল মারাম বাংলা ৮২ পৃষ্ঠা)

মুলত হাত বাঁধার দুটি নিয়ম :

প্রথম নিয়ম : ডান হাতের কজি বাম হাতের কজির জোড়ের উপর থাকবে। (ইবনু খুযাইমাহ)

দ্বিতীয় নিয়ম : ডান হাতের আঙ্গুলগুলি বাম হাতের কনুই-এর উপর থাকবে, অর্থাৎ সমস্ত ডান হাত বাম হাতের উপর থাকবে। (বুখারী . সেটা সরাসরি কোথাও বলা নেই, তবে এটিও সঠিক)

এটাই যিারা’আহর উপর ফিরাআহ রাখার পদ্ধতি। (সংক্ষেপিত)

*** বর্তমানে আমাদের দেশে অনেকে দ্বিতীয় নিয়মটি মানেন ।(আহ্লুল হাদিস)

এবার আমি আমার ব্যক্তিগত দিক থেকে দেখি । তবে কেন জানিনা আমার কাছে দ্বিতীয় নিয়মটা বেশি সাহিহ মনে হয় তবে আমি মনকে দূরে রেখে প্রথমটা পালন করি । আপনি চাইলে যেকোনো ২ টি নিয়ম মানতে পারেন । সেটা আপনার ইচ্ছা । এবং শরিয়ত মতে আপনার কাছে ২ টি অপশন আছে, ২ টি ই সঠিক, এবং ২ টি তেই সুন্নত আদায় হবে ।


কিভাবে হাত বাঁধব সেটা হল । এবার মূল জায়গাতে আসি, কোথায় হাত বাঁধব ।

এই নিয়ে কয়েকটা হাদিস উল্লেখ করিঃ

>

১ম ক্ষেত্র(নাভির নিচে) ঃ---

কাবীসা ইবনু হুলব (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (হুলব) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমামতি করতেন এবং (দাড়ানো অবস্থায়) নিজের ডান হাত দিয়ে বা হাত ধরতেন। -হাসান, ইবনু মাজাহ– (৮০৯)।

এ অনুচ্ছেদে ওয়াইল ইবনু হুজর, গুতাইফ ইবনু হারিস, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ ও সাহল ইবনু সাদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

আবু ঈসা বলেনঃ হুলব এর হাদীসটি হাসান। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা, তাবিঈন ও তাবা-তাবিঈন এ হাদীসের ভিত্তিতে মত দিয়েছেন যে, নামাযের মধ্যে ডান হাত বা হাতের উপর রাখতে হবে। কারো কারো মতে হাত নাভির উপরে বাধতে হবে; আবার কারো কারো মতে নাভির নীচে বাধতে হবে। তারা এরূপও বলেছে যে, নাভির উপরে-নীচে যে কোন স্থানে হাত বাধার অবকাশ আছে। হুলব এর নাম ইয়াযিদ ইবনু কুনাফা আত-তাঈ।

- সূনান আত তিরমিজী ২৫২

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি

বলেছেন, ‘নামাযে হাতের পাতাসমূহ

দ্বারা হাতের পাতাসমূহ নাভীর নীচে

ধরা হবে।’

- সুনানে আবু দাউদ ৭৫৮

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে রাখতে দেখেছি।

- মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৩৯৫৯

আমি আবূ মিজলায র. (বিশিষ্ট তাবেয়ী)কে বলতে শুনেছি, অথবা হাজ্জাজ বলেছেন, আমি আবূ মিজলায র.কে জিজ্ঞেস করলাম, কিভাবে হাত বাঁধবে? তিনি বললেন, ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠে রেখে নাভির নীচে বাঁধবে।

- মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৩৯৬৩

২য় ক্ষেত্র(নাভি উপরে) ঃ---

১ম ক্ষেত্রের ১ম হাদিস টি দেখেন ।

৩য় ক্ষেত্র(বুকে) ঃ---

ওয়ায়িল বিন হুজর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছিলাম, তিনি স্বীয় ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে তার সিনার(বুকের) উপর স্থাপন করলেন। ইবনু ০০০

- বুলুগুল মারাম 278

তাউস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করে তা নিজের বুকের উপর বাধঁতেন।

- সুনান আবু দাউদ 759

{এই দুইটি হাদিস ই আগে উল্লেখ করছি তবে সংক্ষেপিত করে যাতে ২ টি বিষয় একসাথে না হয়}

আকাবা বিন সাহবান বর্ণনা করেন যে, সাইয়্যিদুনা আলী (রাঃ) আয়াতটি [সুতরাং আপনার পালনকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন এবং কুরবানী করুন] ব্যাখ্যা করেছেন যে, এর অর্থ হল ডান হাতটি বুকের উপর বাম দিকের মাঝখানে রাখা।

- বায়হাকী হাদীস 2337

--- এছাড়া আমি অনেক ছোট হাদিস বাদ দিয়েছি, নির্ভরযোগ্য না হওয়াই ।


এখানে বুখারি ৭৪০ হাদিসটি উল্লেখ করার সময় কর্তৃপক্ষ, এই নিয়ে আরেকটি বিস্তর আলোচনা করেছেনঃ

সালাতে নাভির নীচে হাত বাঁধার কথা সহীহ হাদীসে নাই। নাভির নীচে হাত বাঁধার কথা প্রমাণহীন। বরং হাত বুকের উপর বাঁধার কথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

عن وائل بن حجر رضي الله عنه قال صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم فوضع يده اليمنى على يده اليسرى على صدره رواه ابن خزيمة في صحيحة

ওয়ায়িল বিন হুজর (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি তার বুকে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখতেন।

বুখারীর হাদীসের আরবী ইবারতে ذراعه শব্দের অর্থ করেছেন হাতের কব্জি। কিন্তু এমন কোন অভিধান নেই যেখানে ذراع অর্থ কব্জি করা হয়েছে। আরবী অভিধানগুলোতে ذراع শব্দের অর্থ পূর্ণ একগজ বিশিষ্ট হাত। অনুবাদক শুধুমাত্র সহীহ হাদীসকে ধামাচাপা দিয়ে মাযহাবী মতকে অগ্রাধিকার দেয়ার উদ্দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুবাদে পূর্ণ হাতের পরিবর্তে কব্জি উল্লেখ করেছেন। তথাপিও সংশয় নিরসনের লক্ষে এ সম্পর্কে খানিকটা বিশদ আলোচনা উদ্ধৃত করা হলো-

ওয়াইল বিন হুজ্র (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করেছি। (আমি দেখেছি) নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রাখলেন।

(বুখারী ১০২ পৃষ্ঠ। সহীহ ইবনু খুযায়মাহ ২০ পৃষ্ঠা। মুসলিম ১৭৩ পৃষ্ঠা। আবূ দাঊদ ১ম খণ্ড ১১০, ১২১, ১২৮ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ৫৯ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪১ পৃষ্ঠা। ইবনু মাজাহ ৫৮, ৫৯ পৃষ্ঠা, মেশকাত ৭৫ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১৭৪ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৬০ পৃষ্ঠা। যাদুল মায়াদ ১২৯ পৃষ্ঠা। হিদায়া দিরায়াহ ১০১ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সাআদাত ১ম খণ্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা। বুখারী আযীযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪৩৫। বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড হাদীস নং ৬৯৬। বুখারী ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭০২; মুসলিম ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৮৫১। আবূদাঊদ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭৫৯, তিরমিযী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৫২, মেশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ২য় খণ্ড ও মাদ্রাসা পাঠ্য ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৪১, ৭৪২। বুলুগুল মারাম বাংলা ৮২ পৃষ্ঠা)

বুকের উপর হাত বাঁধা সম্বন্ধে একটি হাদীস বর্ণিত হল- সীনা বা বুকের উপর এরূপভাবে হাত বাঁধতে হবে যেন ডান হাত উপরে এবং বাম হাত নীচে থাকে। (মুসলিম, আহমাদ ও ইবনু খুযাইমাহ)

হাত বাঁধার দু’টি নিয়ম-

প্রথম নিয়ম- ডান হাতের কব্জি বাম হাতের কব্জির জোড়ের উপর থাকবে। (ইবনু খুযাইমাহ)

দ্বিতীয় নিয়ম : ডান হাতের আঙ্গুলগুলি বাম হাতের কনুই-এর উপর থাকবে, অর্থাৎ সমস্ত ডান হাত বাম হাতের উপর থাকবে। (বুখারী . সেটা সরাসরি কোথাও বলা নেই, তবে এটিও সঠিক)

এটাই যিরা‘আহর উপর যিরা‘আহ রাখার পদ্ধতি।

বুকে হাত বাঁধা সম্পর্কে আলোচনা-

বুকে হাত বাঁধা সম্বন্ধে আল্লামা হায়াত সিন্ধী একখানা আরবী রিসালা লিখে তাতে তিনি প্রমাণিত করেছেন যে, সালাতে সীনার উপর হাত বাঁধতে হবে। তাঁর পুস্তিকার নাম “ফতহুল গফূর ফী তাহকীকে ওযয়িল ইয়াদায়নে আলাস সদূর”। পুস্তিকা খানা ৮ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত। তা হতে কয়েকটি দলীল উদ্ধৃত করছি।

১। ইমাম আহমাদ স্বীয় মসনদে কবীসহা বিন হোল্ব তিনি স্বীয় পিতা (হোলব) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনি (হোলব) বলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (সালাত হতে ফারেগ হতে মুসল্লীদের দিকে) ডান ও বাম দিকে ফিরতে দেখেছি, আর দেখেছি তাঁকে স্বীয় সীনার উপর হাত বাঁধতে। উক্ত হাদীসে ‘ইয়াহইয়া’ নামক রাবী স্বীয় দক্ষিণ হস্ত বাম হস্তের কব্জির উপর রেখে দেখালেন। আল্লামা হায়াত সিন্ধী বলেন যে, আমি ‘তাহকীক’ কিতাবে يضع يداه على صدره তিনি স্বীয় সীনার উপর হাত রাখলেন, এ কথা দেখেছি। আর আমরা বলছি যে, হাফিয আবূ উমর ইবনু আবদুল বর স্বীয় “আল ইসতিআব ফী মাআরিফাতিল আসহাব” কিতাবে উক্ত হাদীস ‘হোলব’ সাহাবী হতে তাঁর পুত্র কবীসা রিওয়ায়াত করেছেন এ কথা উল্লেখ করে উক্ত হাদীস সহীহ বলেছেন। (২য় খণ্ড, ৬০০ পৃঃ)

২। ইমাম আবূ দাঊদ তাউস (তাবিঈ) হতে সীনার উপর হাত বাঁধার হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

৩। ইমাম ইবনু ‘আবদুল বর “আত্ তামহীদ লিমা ফীল মুয়াত্তা মিনাল মাআনী ওয়াল আসানীদ” কিতাবে উক্ত ‘তাউস’ তাবি‘ঈর হাদীস উল্লেখ করে সীনার উপর হাত বাঁধার কথা বলেছেন। এতদ্ব্যতীত ওয়ায়েল বিন হুজর হতেও সীনার উপর হাত বাঁধার হাদীস উল্লেখ করেছেন।

৪। ইমাম বাইহাকী ‘আলী “ফাসল্লি লি রব্বিকা ওয়ান্হার”, এর অর্থ এরূপ বর্ণনা করেছেন- তুমি নামায পড়ার সময় ডান হাত বাম হাতের উপর রাখ। (জওহারুন্ নকীসহ সুনানে কুবরা ২৪-৩২ পৃঃ)

৫। ইমাম বুখারী স্বীয় ‘তারীখে’ ‘উকবাহ বিন সহবান, তিনি (‘উকবাহ) ‘আলী (রাযি.) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, ‘আলী (রাযি.) বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে (হস্তদ্বয়) সীনার উপর বেঁধে “ফাসল্লি লি রব্বিকা ওয়ান্হার” (আয়াতের) অর্থ বুঝালেন। অর্থাৎ উক্ত আয়াতের অর্থ ‘তুমি সীনার উপর হাত বেঁধে সালাতে যাও’। এর বাস্তব রূপ তিনি [‘আলী (রাযি.)] সীনার উপর হাত বেঁধে দেখালেন। উক্ত আয়াতের অর্থ ‘আবদুল্লাহ বিন ‘আব্বাস (রাযি.) হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এখন নাভির নীচে হাত বাঁধার কোন হাদীস আছে কিনা তা-ই দেখা যাক।

নাভির নীচে হাত বাঁধা ঃ

ইমাম বাইহাকী ‘আলী হতে নাভির নীচে হাত বাঁধার একটি হাদীস উল্লেখ করে তাকে যঈফ বলেছেন।

নাভির নীচে হাত বাঁধার কোন সহীহ হাদীস নাই-

আল্লামা সিন্ধী হানাফী বিদ্বানগণের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, যদি তুমি বল যে, ইবনু আবী শায়বার ‘মুসান্নাফ’ (হাদীসের কিতাবের নাম) হতে শায়খ কাসিম বিন কাতলুবাগা ‘তাখরীজু আহাদিসিল এখতিয়ার’ কিতাবে ‘ওকী’ মুসা বিন ওমায়রাহ হতে, মূসা আলকামা বিন ওয়ায়িল বিন হুজর হতে যে রিওয়ায়াত করেছেন তাতে ‘নাভির নীচে’ হাত বাঁধার কথা উল্লেখ আছে। তবে আমি (আল্লামা সিন্ধী) বলি যে, ‘নাভির নীচে’ হাত বাঁধার হাদীস ভুল। ‘মুসান্নাফ’ এর সহীহ গ্রন্থে উক্ত সনদের উল্লেখ আছে। কিন্তু ‘নাভির নীচে’ এই শব্দের উল্লেখ নাই। উক্ত হাদীসের পরে (ইবরাহীম) ‘নখয়ী’ এর আসার (সহাবা ও তাবিঈদের উক্তি ও আচরণকে ‘আসার’ বলে) উল্লেখ আছে। উক্ত ‘আসার’ ও হাদীসের শব্দ প্রায় নিকটবর্তী। উক্ত ‘আসার’-এর শেষ ভাগে ‘ফিস্সালাতে তাহ্তাস সুররাহ’ অর্থাৎ নামাযের মধ্যে নাভির নীচে (হাত বাঁধার উল্লেখ আছে)। মনে হয় লেখকের লক্ষ্য এক লাইন হতে অন্য লাইনে চলে যাওয়ায় ‘মওকুফ’ (হাদীসকে) ‘মরফু’ লিখে দিয়েছেন। (যে হাদীসের সম্বন্ধÑসহাবার সাথে হয় তাকে ‘মওকুফ’ আর যার সম্বন্ধ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হয় তাকে ‘মরফু’ হাদীস বলে)। আর আমি যা কিছু বললাম আমার কথা হতে এটাই প্রকাশ পায় যে, ‘মুসান্নাফ’ এর সব খণ্ড মিলিতভাবে নাভির নীচে হাত বাঁধা বিষয়ে এক নয় অর্থাৎ সবগুলোতে নাভির নীচে হাত বাঁধার কথাটি উল্লেখ নাই। তাছাড়া বহু আহলে হাদীস (মুহাদ্দিস) উক্ত হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। অথচ ‘নাভির নীচে’ এর কথা কেউই উল্লেখ করেননি। আর আমি তাঁদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি হতে শুনিওনি। কেবল ‘কাসেম বিন কাতলুবাগা ঐ কথার (নাভির নীচে) উল্লেখ করেছেন। তিনি ‘তাম্হীদ’ কিতাবের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন যে, (আহলে হাদীসদের মধ্যে প্রথম) ইবনু আব্দিল বর উক্ত কিতাবে বলেছেন যে, সওরী ও আবূ হানীফা নাভির নীচের কথা বলেন। আর সেটা ‘আলী ও ইব্রাহীম নখঈ হতে বর্ণিত হয়ে থাকে বটে, কিন্তু ঐ দু’জন (‘আলী ও নখঈ) হতে সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। যদি সেটা হাদীস হতো তাহলে ইবনু ‘আবদুল বর ‘মুসান্নাফ’ হতে ওটা অবশ্য উল্লেখ করতেন। কেননা হাত বাঁধা সম্বন্ধে ইবনু আবী শায়বা হতে তিনি বহু রিওয়ায়াত এনেছেন। ২য় ইবনু হজর আসকালানী, (আহলে হাদীস) ৩য় মুজ্দুদ্দীন ফিরোজাবাদী, (আহলে হাদীস) ৪র্থ আল্লামা সৈয়ূতী, (আহলে হাদীস) ৫ম আল্লামা যয়লয়ী, (মুহাককিক) ৬ষ্ঠ আল্লামা আয়নী (আহলে তাহ্কীক) ও ৭ম ইবনু আমীরিল হাজ্জ (আহলে হাদীস) প্রভৃতির উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন যে, যদি “নাভির নীচে”-এর কথা থাকত তাহলে সকলেই তা উল্লেখ করতেন। কেননা তাঁদের সকলের কিতাব ইবনু আবী শায়বার বর্ণিত হাদীস দ্বারা পূর্ণ। তিনি এ সম্পর্কিত হাদীসদ্বয়ের আলোচনা করে বুকে হাত বাঁধাকে ওয়াজিব বলেছেন।

সিন্ধী সাহেব উপসংহারে লিখেছেন “জেনে রাখ যে, ‘নাভির নীচে’-এ কথা প্রমাণের দিক দিয়ে না ‘কত্য়ী’ (অকাট্য), না ‘যন্নী’ (বলিষ্ঠ ধারণামূলক)। বরং প্রমাণের দিক দিয়ে ‘মওহূম’ (কল্পনা প্রসূত) আর যা মওহূম তদ্দ্বারা শরীয়তের হুকুম প্রমাণিত হয় না।....... কাজেই শুধু শুধু কল্পনা করে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে কোন বস্তুর সম্বন্ধ করা জায়েয নয়। অর্থাৎ শুধু কল্পনার উপর নির্ভর করে নাভির নীচে হাত রাখার নিয়মকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সম্পর্কিত করা জায়েয নয়। যখন উপরিউক্ত আলোচনা হতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ হয়ে গেল যে, নামাযের মধ্যে সীনার উপর হাত বাঁধা নয় যে, ওটা হতে মুখ ফিরিয়ে নেন। আর ঐ বস্তু হতে কিরূপ মুখ ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব যা রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত হয়েছে। কেননা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আমি যা এনেছি (অর্থাৎ আল্লাহর ব্যবস্থা), যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে কেউ তার প্রবৃত্তিকে তার অনুগামী না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। অতএব, প্রত্যেক মুসলিম (স্ত্রী-পুরুষের) উচিত তার উপর আমল করা, আর কখনো কখনো এই দু‘আ করা

প্রভু হে, যে বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে তাতে আমাদেরকে সত্য পথের সন্ধান দাও। কেননা তুমিই তো যাকে ইচ্ছা ‘সিরাতে মুস্তাকীমের’ পথ দেখিয়ে থাক”। (উক্ত কিতাব ২-৮ পৃঃ ও ইবকারুল মিনান ৯৭-১১৫ পৃঃ)

আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী তাঁর সিফাত গ্রন্থে হাত বাঁধা সম্পর্কে লিখতে গিয়ে শিরোনাম এসেছেন ঃ وضعهما على الصدر

বুকের উপর দু’ হাত রাখা। অতঃপর তিনি হাদীস উল্লেখ করে নিচে টীকা লিখেছেন। যা বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হলো।

“নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর ডান হাত রাখতেন।” [(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ১/৪/২ ছহীহ সনদে, আর ইবনু হিব্বানও ছহীহ আখ্যা দিয়েছেন। ৪৮৫]

“এ বিষয়ে স্বীয় ছাহাবাগণকেও আদেশ প্রদান করেছেন।”(মালিক, বুখারী ও আবূ আওয়ানাহ)

তিনি কখনো ডান হাত দ্বারা বাম হাত আঁকড়ে ধরতেন।” (নাসাঈ, দারাকুত্বনী, ছহীহ সনদ সহকারে। এ হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত বাঁধা সুন্নাত। আর প্রথম হাদীছ প্রমাণ করছে যে, হাত রাখা সুন্নাত। অতএব উভয়টাই সুন্নাত। কিন্তু হাত বাঁধা ও হাত রাখার মধ্যে সমন¦য় বিধান করতে গিয়ে পরবর্তী হানাফী ‘আলিমগণ যে পদ্ধতি পছন্দ করেছেন তা হচ্ছে বিদআত; যার রূপ তারা এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ডান হাতকে বাম হাতের উপর কনিষ্ঠ ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা আঁকড়ে ধরবে এবং অপর তিন অঙ্গুলি বিছিয়ে রাখবে (ইবনু আবিদীন কর্তৃক দুররে মুখতারের টীকা (১/৪৫৪)। অতএব হে পাঠক! পরবর্তীদের (মনগড়া) এ কথা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে।

“তিনি হস্তদ্বয়কে বুকের উপর রাখতেন।” [আবু দাউদ, ইবনু খুযাইমাহ স্বীয় ছহীহ গ্রন্থে (১/৫৪/২) আহমাদ, আবুশ্ শাইখ স্বীয় “তারীখু আছবাহান” গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৫) ইমাম তিরমিযীর একটি সানাদকে হাসান বলেছেন। গভীরভাবে চিন্তা করলে এর বক্তব্য মুওয়াত্বা ইমাম মালিক এবং বুখারীতে পাওয়া যাবে। এ হাদীছের বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র নিয়ে আমি أحكام الجنائز কিতাবের (১১৮) পৃষ্ঠায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

জ্ঞাতব্য: বুকের উপর হাত রাখাটাই ছহীহ হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত। এছাড়া অন্য কোথাও রাখার হাদীছ হয় দুর্বল আর না হয় ভিত্তিহীন। এই সুন্নাতের উপর ইমাম ইসহাক বিন রাহভিয়া ‘আমল করেছেন। মারওয়াযী المسائل গ্রন্থে ২২২ পৃষ্ঠাতে বলেন, ইসহাক আমাদেরকে নিয়ে বিত্রের ছলাত পড়তেন এবং তিনি কুনূতে হাত উঠাতেন আর রুকু‘র পূর্বে কুনূত পড়তেন। তিনি বক্ষদেশের উপরে বা নীচে হাত রাখতেন। কাযী ‘ইয়াযও الإعلام কিতাবের ১৫ পৃষ্ঠায় (রিবাত্ব তৃতীয় সংস্করণ) এ مستحبات الصلاة ছলাতের মুস্তাহাব কাজ বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুরূপ কথা বলেছেন, ডান হাতকে বাম হাতের পৃষ্ঠের উপর বুকে রাখা। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদের বক্তব্যও এর কাছাকাছি, তিনি তার المسائل এর ৬২ পৃষ্ঠায় বলেন ঃ আমার পিতাকে দেখেছি যখন তিনি ছলাত পড়তেন তখন তার এক হাতকে অপর হাতের উপর নাভির উপরস্থলে রাখতেন দেখুন إرواء الغليل (৩৫৩)।] (দেখুন নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী কৃত সিফাতু সালাতুন্নাবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

{এই লেখার একটি খণ্ডাংশ আগেও উল্লেখ করছিলাম তবে সংক্ষিপ্ত করে, কারন ২ টি বিষয়কে এক না করা}

নাভির উপরে যে হাদিস গুলো দিছিলাম সেখান থেকে প্রথম ২ টা যঈফ(মিথ্যা) হাদিস(তবে এটা অনেকে দলিল হিসেবে পেশ করেন তাই উল্লেখ করলাম) ।

পরের ২ টা হাদিস নিয়ে অনেকের মতভেদ আছে । সেটাকে ১০০% সাহিহ(সঠিক) হাদিস বলার মত কোন নির্ভরযোগ্য প্রমান নেই । তবে হাদিস ২ টা ভালোই প্রচলিত ফলে যঈফ(মিথ্যা) হাদিসও বলা যায় না ।

এবার আমি আমার ব্যক্তিগত দিক থেকে দেখি । আমি অতিতে নাভির নিচে হাত রাখতাম । এরপর এটা কেমন একটা লাগত তাই হাদিস এর দলিল ছাড়াই নিজে মাতব্বারি করে(অনেকে করত তাই) নাভির উপরে রাখতাম । এরপর এক বন্ধু বলল নামাজে বুকের উপর হাত বাধা সুন্নত । তবে আমি সেটা সেইভাবে দেখিনাই । এই কথা শোনার ২-৩ মাস পর এই নিয়ে হাদিস দেখলাম, তারপর থেকে বুকে হাত রাখা শুরু করলাম, শুরুতে একটু সমস্যা হত তবে এখন সঠিক আছে ।

দেখুন এই ব্যাপারটা সুন্নত । ফরজ বা ওয়াজিব নয় যে নামাজ ভঙ্গ হবে । তবে সুন্নত আদায় নিয়ে একটা প্রশ্ন আসে । উল্লেখঃ মালেকী মাযহাব এর অনেকে হাত ই বাধে না ।

এখানে আপনি ৩ টা থেকে যেকোনো একটা করতে পারেন, ৩ তাই সঠিক বলা যায় । তবে ৩ টার মধ্যে কোনটা উত্তম, এমন প্রশ্ন আসলে আমি বুকের উপর হাত বাঁধাকে উত্তম বলে মনে করি(হাদিস মতে) ।

কয়েকজন আলেমের মতামত দেখিঃ

https://youtu.be/A5L-XeQg138
https://youtu.be/RIfVO1awZZo

সবদিক দিয়ে বিবেচনা করে বলতে গেলে, আপনি যেটা ইচ্ছা করতে পারেন ।

"আর সবাই করে তাই করি", এই ধারণা ভুলে যান, তাহলে আপনার ইসলাম পালনই হবে না কারন অধিকাংশ দের অনুসরণ করতে বলা হয় নাই, আপনি রাসুল সঃ কে অনুসরণ করতে বলা হইছে । বরং অধিকাংশ দের থেকে দূরে থাকতে কুরআনে একাধিক আয়াত বর্ণিত আছে ।

উপসংহারঃ আপনি যদি এই বিষয় গুলো বাড়াবাড়ি করে কারর সাথে ঝগড়া/ফাসাদ করেন, তাহলে আর যায় হক আপনার সওয়াবের বদলে পাপ হবে এটা নিশ্চিত । (এটা নিয়ে কোন মিথ্যা হাদিস নেই, এটাতে সব আলেমই সহমত)

কোন ভুল হলে অবশই জানাবেন , প্রসংসা করার চেয়ে ভুল ধরিয়ে দেওয়া উত্তম কারন তাতে একজন নির্ভুল এর দিকে যেতে পারে ।