এটা আসলে নারীবাদের আগমনের একদম শুরুর ফেজ। নারীবাদীদের দেখে,বিভিন্ন ব্লগ পড়ে এবং নিজ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি নারীবাদ মতবাদের কয়েকটা বিশেষ ধাপ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। পরে পুরুষরা নিজেরাই বিয়ে করতে চায় না। হ্যা এটা নারীবাদের শেষ ধাপ।
- আপনার প্রশ্ন ছিল "অধিকাংশ মেয়েরা বিয়ে কেনও করতে চায় না" - আমি বল্ব এটা তো কেবল শুরু,সামনে দেখেন কি হয়।
- পুরুষরা নিজেরাই বিয়ে করতে চাবে না (যদি না ইসলামের পতন হয় বাংলাদেশে,যেটার চেষ্টা অনেক আগে থেকেই করা হচ্ছে)।
আমেরিকার উদাহরণটাই টেনে নেই, [উল্লেখ্য এই পোস্টটা অনেকটাই কপি করা]
নারীবাদের প্রায় সেই শেষ ধাপেই আছে "সেক্যুলার স্টেট অফ আমেরিকা" যেখানে এখন আর পুরুষরা বিয়ে করতে চাচ্ছে না।
পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকাতে এখন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিয়ের হার ৫১% , যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। ১৯৬০ সালেও এই হার ছিলো ৮২%। আবার মোট বিয়ের ৫০% মানে প্রতি দুটো বিয়ের একটা ভেঙ্গে যাচ্ছে। কেন বিয়ের হার এমন হল, পুরুষরা কেন বিয়ে করতে চাইছে না, আর তাতে নারীবাদের ভুমিকাই বা কী, চলুন দেখে আসি।
- তারা আশঙ্কা করছে তারা সম্মান হারাবেঃ
অতীতে একজন পুরুষ যতক্ষন না বিয়ে করতো ততক্ষন তাকে প্রকৃত পুরুষ ভাবা হত না। এখন চিত্র বদলে গেছে। মিডিয়া শাসন করছে সমাজ। আর এই মিডিয়াতে স্বামী আর বাবাদেরকে দেখানো হচ্ছে গোবেচারা, বোকা আর ইডিয়ট হিসেবে। যাদের কাজ হল কেবল আয় করে পরিবারকে খাওয়ানো।
- সেক্স এর অপশন কমে যাবেঃ
যারা অবিবাহিত তারা যার সাথে ইচ্ছে শুয়ে পড়তে পারছে। কিন্তু বিয়ে মানেই একটা বাধা আর স্ত্রীর নজরদারী। এটা রিলেশনেও আছে , কিন্তু বিয়ের মত একটা সামাজিক বন্ডে ব্যাপারটা যত প্রখর, রিলেশনে ততটা না।
- সম্পদ আর সন্তান হারাবেঃ
ডিভোর্স অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশী এখন, মোট বিয়ের ৫০% ভেঙ্গে যাচ্ছে। আর ডিভোর্সের ৮০% দিচ্ছে মহিলারা। আর আদালত সব সময় মহিলাদের পক্ষেই রায় দেয়। তারমানে ব্যাপারটা এই দাড়ালো, আপনি বিয়ে করলেন, কয়দিন পর স্ত্রী আপনাকে ছেড়ে চলে গেলো। যদিও আপনি এই ডিভোর্স চান নি তবু আপনাকে আপনার সম্পত্তির ৫০% দিয়ে দিতে হবে (অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজোসের ডিভোর্সের কথা জানেন অনেকেই। তার স্ত্রী পেয়েছিল ৩৬ বিলিয়ন ডলার। মানে বিয়ে করে সে হয়েছিল বিলিয়নিয়ারের বউ। আর ডিভোর্স দিয়ে নিজেই বিলিয়নিয়ার) । আর সন্তান থাকলে সন্তানের ভরণপোষণের সব খরচ দিতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। তারপরেও আপনি সন্তানকে কাছে পাবেন মাত্র ১০% সময়। সবমিলিয়ে বিয়ে ব্যাপারটা অনেকটা বোকামীর মত, অন্তত আর্থিক দিক বিবেচনা করলে।
- তারা তাদের স্বাধীনতা হারাবেঃ
বিয়ে মানেই ব্যাচেলর লাইফের স্বাধীনতা হারানো, এটা সবাই বোঝে। তাই আমেরিকার মত 'উন্নত' দেশের 'স্পাইসি' লাইফে বিয়ে করে কেন কেউ বাধা পড়তে চায় না, তা বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। কিন্তু এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার আছে। সেটা হল, আপনি কয়েকটা মামলার সম্ভাব্য আসামী হয়ে গেলেন, যেগুলো বিয়ে না করলে প্রশ্নই উঠতো না (যেমন আমাদের দেশে বলা হয়, কাবিননামায় সই করার মাধ্যমে একজন পুরুষ ৬ টি ফৌজদারী মামলার সম্ভাব্য আসামী হয়ে যায়)। ২০১৩ সালের একটি রিপোর্ট বলছে , আমেরিকাতে অন্তত ৫০,০০০ পুরুষ জেলে আছে চাইল্ড সাপোর্ট মামলার আসামী হয়ে।
- সিঙ্গেল লাইফ এখন অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে মজারঃ
অতীতে একজন অবিবাহিত পুরুষকে অপরিপক্ক মনে করা হত। সেই দিন বদলেছে। এখন ৪০ বছর বয়সের ব্যাচেলর খুবই কমন। কোম্পানীগুলোও ব্যাচেলরদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে যাদের পারিবারিক পিছুটান নেই, তারা কাজে বেশি মনোযোগী। এছাড়া হাজারো বিনোদনের মাধ্যম তৈরী হয়েছে যা দিয়ে দিনের পর দিন কাটিয়ে পারছে আনন্দের সাথে। ভিডিও গেম, টিভি, স্পোর্টস ইভেন্ট আর সবার উপরে ইন্টারনেট তো আছেই। বাকী রইল সেক্স। এখন বিয়ের আগের সেক্স তো ট্যাবু নেই। রয়েছে হাজারো ডেটিং অ্যাপ আর সাইট, চাইলেই খানিক সময়ের মধ্যে মেয়ে ম্যানেজ করে নিতে পারছে (i.e- ওয়ান নাইট স্টান্ড)। কিছু না পেলে রয়েছে প্রস্টিটিউটরা। ডিনারের দামে যখন ২৪ বছর বয়সী রেডহেড পাওয়া যাচ্ছে তখন বিয়ে কেন করবো?
পুরো ব্যাপারটা এভাবে বলা হচ্ছে, "অনেক খরচ কিন্তু পুরষ্কার খুব কম" আর তাই তো আমেরিকাতে বিয়ের হার এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম।
বিয়ে সম্পর্কে কিছু সত্যঃ
বিয়ে কমে যাওয়ার কারণ হল নারীরা আর বিশ্বস্ত নয়। তারা আপনার সবকিছু নেবে কিন্তু বিনিময়ে দেহ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না। কিন্তু সারাজীবন ওরকম মোটা আর কুৎসিত বউ নিয়ে কাটানোর কি দরকার যেখানে আপনি খুব বেশি পরিশ্রম ছাড়াই তার চেয়ে সুন্দরি মেয়ে পেয়ে যাচ্ছেন। স্বামীর জন্য যেকোন কিছু করা, স্বামীর যেকোন আদেশ মানাকে নারীবাদ পরাধীনতা বলছে। আর নারীরা তো সেগুলো বিশ্বাসও করছে। তাই এখন আক্ষরিক অর্থেই বিয়ে করার কোন কারণ নেই।
- নারীঃ বিয়ে আমাকে নিরাপত্তা দেবে।পুরুষঃ বিয়ে আমার নিরাপত্তা কেড়ে নেবে।
- বিয়ে একমাত্র যুদ্ধ যেখানে আপনাকে শত্রুর পাশে ঘুমোতে হয়।
সমাধান?
আপাতত ধ্বংসযজ্ঞ দেখুন। এর ফলাফল বাংলাদেশেই ২০-২৫ বছরের মধ্যে এর ফলাফল দেখতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ। তবে কিছু সাম্ভাব্য সমাধান আমি প্রপোজ করতে পারি। [এই অংশটুকু আমার নিজের]
- ইসলামের দিক থেকে আপনি কাগজ-কলমের ব্যবহার না করেও বিয়ে করতে পারেন।
- নিকাহ কন্ট্র্যাক্ট দেশের আন্ডারে করবেন না অর্থাৎ, কাগজে কলমে সই করবেন না।
খবরদার! এটা করলেই আপনি একই সাথে ৬ টা ফৌজদারি মামলার সাম্ভাব্য আসামী হতে পারেন।
চুপচাপ, কোন শাইখ এর কাছে গিয়ে দুইজন সাক্ষী (সেটা হতে পারে আপনার বন্ধু কারণ বাবার অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করা যায়) নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে ফেলবেন, কোন সমস্যাই হবে না।
আর কাবিননামা নিয়ে কোন সমস্যাই হবে না কারণ, বাংলাদেশ সেক্যুলার স্টেট এবং আপনাকে কেউ প্রশ্ন করলে সরাসরি বলে দিবেন আপনি লিভ টুগেদার করছেন।
- এছাড়াও, মৌখিক তালাক অনেক বেশি কার্যকর। যেকোন সময়ে যেকোন কারণে তালাক দিয়ে দিতে পারবেন।
নারীরা বর্তমানে স্বয়ংসম্পূর্ণ তাই তাদের আর্থিক কোন সাহায্য বা ভরণপোষণ করতে হবে না। এটাই পুরুষদের জন্য একটা লাভের দিক।
- কোন মেয়ে যদি আপনাকে পছন্দ করে তাহলে সে কখনই আপনার থেকে বেশি অর্থ চাবে না মোহর হিসাবে।
কারণ, নারীরা যেসকল পুরুষকে "রেইট" করে সেই সকল পুরুষদের জন্য তারা নিয়ম ভাঙ্গে। আর যেই সকল পুরুষদের এরা "রেইট" করে না তাদের জন্য তারা নিয়ম/শর্ত বানায়।
এই জন্যই কুরআনে কিন্তু মোহর থেকে বাচার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
0 Comments