তার বয়সের হিস্টোরিকাল এনালাইসিস করলে দেখবেন তার বয়স ১৬ এর নিচে ছিলোই না। কিন্তু, বুখারি,মুসলিম এবং অন্যান্য হাদিসের সবগুলোতেই দেখবেন তার বয়স ৬ এবং ৯। তাহলে এরকম কেনো হল?

এছাড়াও, আমাদের মুসলিমদের এখানে একটু চিন্তা করতে হবে। বুখারির সব হাদিসই কি সহিহ হতে পারে এরকম কোন শর্ত আছে? বুখারি কি নিজেও বলেছেন তার সব হাদিস সহিহ?

উত্তর হল, না তিনি বলেন নি। কিন্তু এটা আমাদের বিশ্বাস হয়ে গেছে। কেউ যদি বিশ্বাস না করে যে বুখারির সব হাদিস সহিহ তাহলে তাকে সবাই Deviant - সহিহ ইসলাম থেকে বিচ্যুত বলে। এধরনের কালচার থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে।

এবার তাহলে শুরু করি।

আয়িশা (রা)-কে নিয়ে যত হাদিস দেখবেন তার সবগুলোতেই আপনি একজন ব্যক্তিকে পাবেন।তিনি হলেন "হিশাম বিন উরওয়া" ।

তাকে পেতেই হবে। যদি না পান তাহলে বুঝবেন সেই হাদিসের চেইন Disconnected কারণ, একমাত্র হিশাম বিন উরওয়া-ই আয়িশা *রা এর বয়স সম্পর্কিত সব হাদিস মক্কা থেকে বাগদাদে নিয়ে যান। হ্যা তিনিই সব হাদিস মক্কা থেকে সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো বাগদাদ(ইরাক)-এ গিয়ে অন্যদের নিকট ছড়িয়ে দেন।

তার দেয়া হাদিসগুলোই পরে বিভিন্ন বইয়ে সংগৃহীত হয়।

  • আয়িশা(রা)-র বয়স এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এটা শুধু একজনের মাধ্যমে প্রচারিত হবে? ব্যাপারটা সন্দেহজনক না?

অবশ্যই,এটা বিভিন্ন স্কলাররাও বলে গিয়েছেন বহু আগে থেকেই। কয়েকটা দেখে নেই।আমি একদম আসল আরবি আসল টেক্সট সহ বইয়ের পেইজ নম্বর ভলিউম নম্বর সহ দিচ্ছি। দেখে নিন।

  • ইয়াকুব ইবন শাইবাহ বলেন, তার (হিশামের) বর্ণনাগুলো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য তবে সেগুলো বাদে যেগুলো তিনি ইরাকে যাওয়ার পর বর্ণনা করেছিলেন।

___ Tehzibu'l-Tehzib Vol 11,page 48–51

আরেকটা দেখি,

  • ইউসুফ বিন খারাশ বলেন, মালিক (ইবন আনাস) হিশাম বিন উরওয়া-কে নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন যদিও সে সত্যবাদী ছিল। ইবন খারাশ বলেনঃ আমাকে জানানো হয়েছিল যে মালিক (ইবন আনাস) আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন হিশামের সেসকল বর্ণনাগুলোতে যেগুলো তিনি ইরাকের (বাগদাদ) মানুষদের বলেছেন।

___ তারিখ বাগদাদ[1]

আচ্ছা, হিশাম তো যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য ছিলেন হঠাৎ কি হল তার?

এ সম্পর্কে আমরা কিছু তথ্য পাই এখান থেকে,

  • বার্ধক্য হিশামের স্মৃতিশক্তির ওপর অনেক খারাপ প্রভাব ফেলে।

Mizan Al-Itidal Vol 4 Page 301–302

এবার আমরা আয়িশা (রা)-র বয়স বের করব,এক্ষেত্রে আমরা একটি প্রসঙ্গ কাঠামো বাছাই করে নেই। তার বড় বোন আসমা (রা) কে,

  • তিনি (আসমা) আয়িশার বড় বোন তার থেকে ১০ বছরের বড় ছিলেন

———- আল বিদায়া ওয়াননিহায়া Vol 8 page 371

  • তিনি (আসমা) সে বছর (৭৩ হিজরি-তে) তার নিজ সন্তানকে মৃত্যুবরণ করতে দেখেন এবং আমরা আগেই উল্লেখ করেছি পাঁচ দিন পরে তিনি নিজেই মারা যান, অন্যান্য বর্ণনা অনুসারে সেটা পাঁচ ছিলনা বরং ১০ বা ২০ বা ২০ দিন থেকে বেশি বা প্রায় ১০০ দিন ছিল। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ১০০ বছর।

——— Vol 8,Page 276

সরাসরি আসল বই এর ছবি,

উল্লেখ্য, বাংলার ৬০০ পৃষ্ঠায় পাবেন,আমি আরবি থেকে নিয়েছি।

এই হিসাব অনুসারে,

৭৩ হিজরিতে আয়িশা (রা)-র বয়স ৯০ হবার কথা।

তবে বিয়েরসময় ০-২ হিজরিতে তার বয়স হবে,

৯০-৭৩ থেকে ৯০-৭৩+২ = ১৭-১৯ বছর

আবার আদ দাহাবি অনুসারে বয়সের পার্থক্য ১৩-১৯ (উইকিপিডিয়াতে দেখলাম)

এক্ষেত্রে তার বয়স আরো বেশি হবে। (তবে এত দূর যাওয়া লাগবে না)

সুতরাং, তার বয়স ৬ হতেই পারেনা!

  • এছাড়াও, হিশামের নিজের বর্ণনাই হিশামকে এক্সপোজ করে। কিভাবে?

আচ্ছা একজন সদ্য বিবাহিতা যুবতি তার স্বামীগৃহে না যাওয়া পর্যন্ত যেই উদ্বেগ কাজ করে সেটা একটা ৯ বছরের বয়ঃসন্ধিতে পারা না দেয়া বাচ্চার মধ্যে কখনো পাবেন??

তাহলে আয়িশা (রা)-র ক্ষেত্রে এটা কেনো হল? অবশ্যি তিনি ৯ বছর বয়সি ছিলেন না যেটা আমরা আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া থেকে প্রমাণ করেছি।

এবার সকল বিন্দুগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করি,

  • আয়িশা (রা) র বয়স সম্পর্কিত সকল হাদিস তিনি সংগ্রহ করে বাগদাদ(ইরাক)-এ নিয়ে গেছিলেন।
  • সেখানে তিনি বার্ধক্য জনিত কারণে অনেক স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তি কিছুটা হলেও হারিয়েছিলেন। একারণেই অনেক বড় ইমাম (ইমাম মালিক,ইয়াকুব) তারা তার সেই বর্ণনাগুলোর প্রতি আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন।
  • এমতাবস্থায় অবশ্যই অবশ্যই তিনি
    • ষোল বা "সিত্তাতা আশারা" এবং উনিশ বা "তিসারা আশারা"

থেকে "আশারা" (দশ) বাদ দিয়ে সিত্তাতা (ষোল) এবং তিসারা (নয়) বানিয়ে ফেলেছিলেন।

  • তবে বড় বড় স্কলার তার বিরোধিতা করেছেন। এর মধ্যে আরো একজন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক আদ দাহাবিও এই বর্ণনাগুলোর সমালোচনা করেছিলেন।

আশাকরি এতটুকুতেই বুঝতে পেরেছেন।

সমস্যা হলে জানাবেন। ___ সালাম

ফুটনোটগুলি